অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিভ্রান্তিকর সংবাদের জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমা প্রার্থী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. নাসিমুল গনির বরাবর পাঠানো এক আধা সরকারি চিঠিতে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনার কথা জানান।
উপদেষ্টা নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই চিঠি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, জনপরিসরে কাজ করার একটা ঝুঁকি হলো সাংবাদিকরা, তাদের গণমাধ্যমের কাটতি বাড়াতে, যে কারো বক্তব্যের উপর কাঁচি চালিয়ে মুখরোচক সংবাদ পরিবেশন করেন। আমাকে নিয়ে তেমন একটি সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছি আজ।
চিঠিতে উপদেষ্টা বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, মানুষ সরকারি দপ্তরের ভূমিকায় এতটাই ক্ষুব্ধ যে, একজন আমাকে বলেছে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে যে বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে এ বিমানটি মাইলস্টোনে নয়, সচিবালয়ে পড়া উচিত ছিল।
কিছু সংবাদপত্র, টিভি এবং যোগাযোগ মাধ্যম, ‘একজন আমাকে বলেছে’ শব্দগুলি বাদ দিয়ে এটিকে আমার বক্তব্য হিসেবে প্রচার করেছে। যা সেদিনের সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ বা আমার বক্তব্যের সম্পূর্ণ ভিডিও শুনলেই প্রমাণিত হবে।
উল্লেখ্য, মাইলস্টোন দুর্ঘটনার দিন আমি নিজেই সচিবালয়ে কর্মরত ছিলাম।
তিনি আরও লেখেন, যাহোক, অগ্রজ সচিব হিসাবে, আমার বক্তব্যের বিকৃতির কারণে সৃষ্ট এ বিভ্রান্তিকর সংবাদের জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বিষয়টি তোমার কনিষ্ঠ সহকর্মীদের নজরে আনলে খুশি হব।
সবশেষে তিনি লেখেন, আমি আশা করব দলীয় আনুগত্য বাদ দিয়ে পেশাদার আমলা হিসেবে কাজ করবে এবং জনস্বার্থকে সবার উপরে প্রাধান্য দেবে।
চিঠির শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে আমার কার্যকালের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
তিনি লেখেন, আমার কার্যকালে, আমার দায়িত্বধীন এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেয়েছি। বিদ্যমান পদ্ধতির কারণে কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু উদ্যোগ আমাদের মেয়াদে শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর দায়ভার সম্মিলিতভাবে আমাদের সবার।