অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালকে ‘সংস্কারের অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার রাত সোয়া নয়টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ভাষণে তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণ প্রজন্ম যে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, সরকার সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বিস্তৃত সংস্কার আনে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ নাগরিক অধিকারকে আরও সুসংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে—সেই ভিত্তি তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় পরিস্থিতি ছিল নাজুক। বহু থানায় পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি ছিল না, সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার বদলে ভীতি কাজ করছিল। পর্যায়ক্রমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, বর্তমানে পুলিশ মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না, বেআইনি আটক বা তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে না। জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী গড়ে তুলতে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রণয়ন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাষণে তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূস। সেপারেশন অব জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাজদার হোসেন মামলার রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের কথা জানান তিনি। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য রায় সরাসরি সম্প্রচার, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ এবং অন্তর্বর্তী আপিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করা হয়। মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।