মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি (এম এ জি) ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। ১৯৮৪ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাবার কর্মস্থল সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ওসমানী। তাঁর আদি বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে না গিয়ে পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। বিদুষী মায়ের তত্ত্বাবধান ও গৃহশিক্ষকের সহায়তায় বাংলা ও ফার্সি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন।
১৯২৯ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি আসামের গৌহাটির কটনস স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে মায়ের ইচ্ছায় ১৯৩২ সালে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন এবং ইংরেজিতে কৃতিত্বের জন্য ‘প্রিটোরিয়া অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। একই বছর উচ্চশিক্ষার জন্য আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৩৬ সালে আই.এ এবং ১৯৩৮ সালে বি.এ পাস করেন।
১৯৩৯ সালে ভূগোলে এম এ প্রথম পর্বে অধ্যয়নরত অবস্থায় ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ছাত্রজীবন থেকেই মেধা, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ.ও.টি.সি’র সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে কিং কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালে ক্যাপ্টেন এবং ১৯৪২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে পদোন্নতি পান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত বার্মা রণাঙ্গনে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে যোগ দেন এবং কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পি.এস.সি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সেনা সদর দপ্তরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার নিযুক্ত হন এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্ব পান। সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে অসামান্য নেতৃত্ব দেন এবং যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।