ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একইসঙ্গে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একসঙ্গে গণনা করা হবে এবং ফলাফলও একইসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। এতে করে সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এজেন্টরা চলে যাওয়া বা বাইরে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা কমবে।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, ভোটকেন্দ্রে দুটি ব্যালট ব্যবহৃত হবে—সাদা ব্যালট সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য। দুটি ব্যালটই একইসঙ্গে গণনা করা হবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠে থাকবেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণের মূল দায়িত্বে থাকবেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন।
ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট গণনা শেষে কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে। পরে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা রিটার্নিং অফিসারের কাছে যাবে এবং সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছাবে। কমিশনের ঘোষণা মঞ্চ থেকেই চূড়ান্ত ফলাফল জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রের আনঅফিসিয়াল ফলাফল আগে ঘোষণা করা হলেও তা প্রার্থী বা তাদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ‘ফর্ম-১৮’-তে লিপিবদ্ধ করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা মাঠে থাকবে, যার একটি অংশ সরাসরি ফিড দেবে এবং বাকিগুলো লোকাল রেকর্ডিং করবে। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ৯০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের পর কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ভোটারদের ভোট গ্রহণ করা হবে।
ভোটার স্লিপ ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটার স্লিপের আকার অপরিবর্তিত রেখে সেখানে প্রার্থীর নাম বা প্রতীক যুক্ত করার বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
গোপন কক্ষে ভোটারসহ কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সাংবাদিকরা নীতিমালা অনুসরণ করে পেশাগত কাজে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন, তবে গোপন কক্ষে প্রবেশ বা লাইভ সম্প্রচার করা যাবে না।
অবৈধ অস্ত্র ও কালো টাকার প্রভাব ঠেকাতে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিষয়ে নজরদারির জন্য বিএফআইইউকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদানের আহ্বান জানান।