গণভোট কোনো সাধারণ কাগজে দেওয়া সিল নয়, এটি সন্তানের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা এবং দেশের আগামী দিনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে নাগরিক হিসেবে মানুষের দায়িত্ব ও অধিকার এক বিন্দুতেই এসে মিলেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন উপলক্ষে গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ। স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এই ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি নিয়মিত সাংবিধানিক আয়োজন নয়, এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, এই নির্বাচন সেই জাগরণের সাংবিধানিক রূপ। রাজপথে উচ্চারিত দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখাও নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশ কি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের পথে এগোবে, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ফিরে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবে এই গণভোট।
তিনি সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গণতন্ত্রে যেমন বিজয় স্বাভাবিক বাস্তবতা, তেমনি পরাজয়ও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। নির্বাচনের পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।