নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে পড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে পড়ানো সম্ভব নয়। কারণ তাদের একজন বর্তমানে পলাতক এবং অন্যজন কারাগারে রয়েছেন। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে, যা এই প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে অসম্ভব করে তুলেছে।
তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য সংবিধানে দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথমত, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি একজনকে মনোনীত করতে পারেন, যিনি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। দ্বিতীয়ত, যদি তিন দিনের মধ্যে কোনো কারণে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা না যায়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন। তবে সরকার আশা করছে, তিন দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকারের কাছেই সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় একজন পলাতক এবং অন্যজন কারাগারে থাকায় সেই স্বাভাবিক পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে পদত্যাগ ও মামলার বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় সংবিধানে উল্লেখিত বিকল্প বিধানগুলোই গুরুত্ব পাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি চাইলে কোনো উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক পদধারীকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন, যেমন প্রধান বিচারপতি, যদি তিনি এতে সম্মত হন। একই সঙ্গে সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচন-পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
আইন উপদেষ্টা জানান, সরকার দ্রুত নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী। সে কারণে কোনো ধরনের অযথা বিলম্ব না করে সংবিধানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পথেই শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শপথ সংক্রান্ত বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিক মতামত উপস্থাপন করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।