বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদি হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণমানুষের ভাবনায় আগামী নির্বাচনের ইশতেহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ডাকসু ও সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (কাস্ট) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব হয়েছে গণমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য। আমরা আশা করি, নতুন ধারার রাজনীতিতে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা ছাত্রদের ভয় পায়, তারা ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে কীভাবে?
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কোনো দলের জয় হয়নি; জয় হয়েছে গণতন্ত্রের।’ তিনি মত দেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়ন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু সমাধান আমরা চাই। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে ব্যর্থ।’
আগামী গণভোট প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। যারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে, তরুণ প্রজন্ম সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।
সেমিনারে কাস্টের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ইশতেহার জনগণের সঙ্গে একটি অঙ্গীকার; সেখানে অবাস্তব বা প্রতারণামূলক প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত নয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আশরাফ আল দীন বলেন, সুশিক্ষার বিস্তার ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ ছাড়া আলোচনায় বক্তা মারদিয়া মুমতাজ বলেন, অতীতের ভুলের দায় তরুণদের রক্ত দিয়ে শোধ করতে হয়েছে; প্রকৃত পরিবর্তন এসেছে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে।