অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) ও গণভোট সংক্রান্ত কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে গণভোটের প্রচারণায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয় এই দায়িত্ব শহীদরা আমাদের দিয়ে গেছেন। অতীতের ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।
আলী রীয়াজ আর বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারি কর্মচারীদের নৈতিক দায়িত্ব এবং এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় একবাক্যে মত পাওয়া গেছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা ভিন্ন কথা বলছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, জীবন দিয়েছেন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তারাই আমাদের দুটি দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। একটি হলো, ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, আরেকটি হলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। গণভোট সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। তাই জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ কী। ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক ধরে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধনের উদাহরণ টেনে আলী রীয়াজ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী একটি কমিটির মাধ্যমে হলেও শেষ পর্যন্ত একক সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন যেন আর কখনো ব্যক্তিগত ইচ্ছার খেলায় পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই গণভোট জরুরি।