নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিএনপির চাপে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একপাক্ষিক আচরণ করছে। তার অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চাপে পড়ে ইসি আইনি অবস্থান থেকে সরে এসে সংস্কারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
বিএনপির চাপেই ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ইসি সংস্কার ও গণভোটের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে না পারে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করা যায় না। ইসি যদি মনে করে দেশে একটি মাত্র দল আছে, তাহলে তারা ভুল করছে।’
তিনি আরও বলেন, ইসি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে এনসিপিকে অবস্থান নিতে হবে। ‘আমরা সংঘাত চাই না, তবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ অব্যাহত থাকলে মাঠে নামতে বাধ্য হব,’—বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বিএনপি ও ছাত্রদলের চাপ ও ইসির সামনে মব তৈরির কারণেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। তিনি জানান, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিক—এটি এনসিপি চায় না এবং এ বিষয়ে দলটি আদালতের শরণাপন্ন হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, তার আগমনের সময় ঢাকাজুড়ে পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়া-র শোকসভা উপলক্ষেও রাজনৈতিক প্রচারণা চলছে, যা উদ্বেগজনক।
তারেক রহমানের একটি বক্তব্য উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, ‘তিনি বলেছিলেন— “আই হ্যাভ এ প্ল্যান।” স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা কি সেই পরিকল্পনার অংশ?’
বৈঠকে এনসিপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ আরও দুই সদস্য। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে।