ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রশ্নে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ভারতের জন্য হুমকি কি না—এ বিষয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কাঠামো বোঝা জরুরি। যদি এটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তবে তাদের পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদি নাকি স্বল্পমেয়াদি—তা বিবেচনায় নিতে হবে। এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, তিন বাহিনীর যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা আছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে, যারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।
ভারতের সেনাপ্রধান বলেন, যোগাযোগ অব্যাহত রাখার মূল লক্ষ্য হলো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি প্রতিরোধ করা। তিন বাহিনীর বর্তমান পদক্ষেপ কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে নয়। সক্ষমতা উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া—ভারত যেমন করছে, তেমনি অন্য দেশগুলিও করছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে তিনি পাকিস্তানকে পুনরায় সতর্ক করে বলেন, এই অভিযান শেষ হয়নি। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু হওয়া কার্যক্রম এখনও সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো দুঃসাহস দেখালে উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনায় তিন বাহিনীর নিখুঁত সমন্বয়ের উদাহরণ, যেখানে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল।