একজন ওয়ার্ড কমিশনারের নির্দেশে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে—এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য আখ্যা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন,
এই হত্যাকাণ্ড কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে ঘটেছে—এ কথা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তার দাবি, এই হত্যার পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র রয়েছে এবং সেই চক্রের সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। এ কারণে তারা এই অভিযোগপত্র মানেন না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ আল জাবের।
অভিযোগপত্র নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন,
‘সরকার বলেছে যে, একজন ওয়ার্ড কমিশনার নাকি ওসমান হাদিকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে। যার বদৌলতে ফয়সাল করিম মাসুদ খুন করেছে। এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। ওসমান হাদিকে খুনের সঙ্গে একটা পুরো খুনের চক্র জড়িত রয়েছে। এই খুনের পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত রয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই থামবে না। যেই চার্জশিটে তাদের নাম নেই, সেই চার্জশিট মানি না।’
উল্লেখ্য, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ডিবি প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন এবং সেই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। তদন্তে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরের পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।