আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশে হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান ঘটবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো কী হবে, তা এই গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় আবারও কর্তৃত্ববাদী শক্তি ফিরে আসার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই গণভোট নিয়ে দেশের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। আলী রীয়াজ বলেন, সমাজে ধর্মীয় নেতাদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে একবার কেউ ক্ষমতায় বসতে পারলে নানা ছলচাতুরী ও কলাকৌশলের মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। বিগত ৫৪ বছরের ইতিহাসে এ দেশে এটাই ঘটেছে। গণভোটের মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।” তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করবে এই গণভোট।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই নেটওয়ার্ককে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ ও জাতির কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. মো. আব্দুর রশীদ ও ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চার শতাধিক বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং গণভোট বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।