বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন এই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিকূলতার মুখেও খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার, সাহস ও দৃঢ়তা তাঁকে কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে বসিয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:০০

 সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না, আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করেও তা পাওয়া যায় না। এটি মানুষের কাজ, আদর্শ ও চরিত্রের নিরব মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, জোর করে আদায় করা শ্রদ্ধা স্থায়ী হয় না, কিন্তু প্রকৃত সম্মান ঠিকই থেকে যায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন এই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিকূলতার মুখেও খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার, সাহস ও দৃঢ়তা তাঁকে কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে বসিয়েছে।

শৈশব ও বাঁকবদল (১৯৪৫-১৯৭১)

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্ম খালেদা খানম পুতুলের। পরে তিনি জাতির কাছে পরিচিত হন বেগম খালেদা জিয়া নামে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ব্যবসায়ী, মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় দিনাজপুরের মিশন স্কুলে।

১৯৬০ সালের আগস্টে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করেন। এরপর ঢাকায় ফিরে আসেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান আর্মি চট্টগ্রামে বর্বরোচিত হামলা চালায়। তখন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। খালেদা জিয়া দুই শিশু সন্তান তারেক রহমান (৫) ও আরাফাত রহমান কোকো’কে (১ বছর ৫ মাস) নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে একা ছিলেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে সাড়ে পাঁচ মাস ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি রাখা হয়। তাঁর সেই দিনগুলো কাটে স্বামী হারানোর শঙ্কা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠায়।

রাজনীতিতে অনিচ্ছাকৃত প্রবেশ

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খালেদা জিয়া পরিবার নিয়ে অনেকটাই নিভৃত জীবন যাপন করছিলেন। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলেও তিনি একজন গৃহিণীই থেকে যান এবং তাঁকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যেত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর হঠাৎ করেই তাঁর এই জীবনে ছেদ পড়ে। বিএনপি গভীর সংকটে পড়লে দলের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে কথা ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবরণ অনুযায়ী— খালেদা জিয়া নিজে রাজনীতিতে কখনো আগ্রহী না হলেও তখনকার ক্ষমতাসীন মহল তার সম্ভাব্য প্রভাবকে ভয় পেত।

সাংবাদিক শফিক রেহমান তাঁকে সেই সময় ‘দুই ছেলেকে মানুষ করা নিয়ে ব্যস্ত এক লাজুক গৃহবধূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবুও রাজনৈতিক অস্থিরতার সেই সময়ে দলীয় নেতারা তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করতে থাকেন।

গভীর শোক এবং রাজনৈতিক জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে দ্বিধায় থাকার কারণে খালেদা জিয়া প্রথমে রাজনীতিতে আসতে চাননি। কিন্তু তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন।

রাজনৈতিক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করলেও এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়া এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন। 

মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, ‘আজকে আমরা যে বিএনপি দেখি, তা খালেদা জিয়ার হাতেই গড়া।’

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তিন মেয়াদে তিনি বেশকিছু জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিদ্যুতায়ন ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, সেলুলার এবং আইএসডি সেবার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগের অগ্রগতি, ১ হাজারের বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ।

বেসরকারিকরণ বাড়ানো, আয়কর কমানো, আমদানি শুল্ক সহজ করা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করে তিনি অর্থনীতিতে জিয়াউর রহমানের নীতিকে এগিয়ে নেন।

খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণেও কাজ করেছেন। তিনি ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন, বীর প্রতীক তারামন বিবিকে সম্মাননা দেন এবং ২০০৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতা

আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়ন চালিয়েছে। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় তাঁকে দণ্ডিত করা হয়। যা তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং ওই বছর জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি কারাগারেই ছিলেন। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, এসব মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন, গণগ্রেফতার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে ২০২০ সালের মার্চে মানবিক কারণে তাঁর সাজা স্থগিত করা হয়। পরে তা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পূর্ণ ক্ষমা পান। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং মে মাসে দেশে ফেরেন। তবে, শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেননি।

প্রতিরোধের উত্তরাধিকার

তাঁর সমর্থক ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কাছে খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের এক মূর্ত প্রতীক। কারাজীবন, আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের মুখেও তিনি কখনো দমে যাননি। 

তাঁর সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গড়ে তুলতে, কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে এবং নারী নেতৃত্বে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।

একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার তাঁর এই যাত্রা স্থিতিস্থাপকতা, সাহস ও দৃঢ়তার এক গল্প। রাজনৈতিক উপাধির বাইরে তাঁর উত্তরাধিকার হলো— তিনি এই বার্তা রেখে গেছেন যে, সততা, অধ্যবসায় এবং সত্যের অন্বেষণ সবচেয়ে কঠিন ঝড়কেও মোকাবিলা করতে পারে।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের […]

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩১

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।