বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া–এর ইন্তিকালে দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালে জাতি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। এই গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি মরহুমার পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন—যেন সবাইকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করা হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীনতা থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবিচল অবস্থান জাতির স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
এর আগে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে বসুন্ধরায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে তাঁকে কেবিন থেকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছিলেন।