শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

হজ্জ পরিচালনায় রিয়াদ ও মদিনায় ডানা মেলবে ইউএস-বাংলা

দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা আগামীতে ঢাকা-জেদ্দা হজ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এতে হজ যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি কমে আসবে বলে আশা করছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারে হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজে সাংবাদিক সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক বলেন, প্রতিবছরই হজের সময় এয়ারলাইন্সগুলোর সিডিউল […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৫

দেশের অন্যতম বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা আগামীতে ঢাকা-জেদ্দা হজ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এতে হজ যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তি কমে আসবে বলে আশা করছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারে হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজে সাংবাদিক সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক বলেন, প্রতিবছরই হজের সময় এয়ারলাইন্সগুলোর সিডিউল নিয়ে একটি সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে দেখা যায় হজ যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেদ্দায় পৌঁছাতে পারেন না। তাদের সুবিধার্থে এই ফ্লাইট চালুর জন্য আমরা ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও দিয়েছি। আশা করছি আমরা অদূর ভবিষতে এই রুটে ফ্লাইট চালু করার অনুমতি পেয়ে যাবো।

তিনি বলেন, আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মাসকট, দোহা, শারজা, আবুধাবিতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সবশেষ ইউএস বাংলা সৌদি আরবের জেদ্দায় ফ্লাইট পরিচালনা করছে। জেদ্দায় আমরা শুধু ভাই-বোনদের সেবা দিচ্ছি না, উমরা হজ যাত্রীদেরও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে সৌদি প্রবাসীদের পাশাপাশি যারা উমরা হজ করতে যাবেন তাদেরকেও সেবা দেওয়ার উদ্দেশে এ ফ্লাইট চালু করে এয়ারলাইন্সটি।

কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি এয়ারলাইন্সেরই চীনের একটি রাজ্যে ফ্লাইট পরিচালনার স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে এই এয়ারলাইন্সটি ঢাকা-গুয়াংঝু ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে। কোভিডের সময় শুধু ঢাকা-গুয়াংঝু রুট ছাড়া বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ফ্লাইট বন্ধ ছিলো। সেই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস বাংলা। সেখান থেকেই আমরা মাস্ক, পিপিইসহ কোভিডের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি এনে বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করেছি। আমরা শুধু বিজনেস করছি তা কিন্তু নয় আমাদের জায়গা থেকে আমরা দেশ তথা মানুষের সেবা দেওয়ারও চেষ্টা করেছি।

আরেকটি রুট হচ্ছে ঢাকা-চেন্নাই। এই রুটে অনেক যাত্রী ছিলো কিন্তু সরাসরি কোনো ফ্লাইট ছিলো না। আমরা শুধু ছোট একটি সিদ্ধান্তে সেই রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের চট্টগ্রাম-কলকাতায় ৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হতো। সেখান থেকে আমরা তিনটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম-চেন্নাই করে দেই। এতেই মানুষ এখন সরাসরি এই এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-চেন্নাই যাতায়াত করতে পারছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উল্লেখযোগ্য একটি দেশ হচ্ছে মালদ্বীপ। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যাওয়ার কোনো সরাসরি ফ্লাইট ছিলো না। বারবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বলেও ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। অথচ এই দ্বীপ দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করছে। কিন্তু বাংলদেশ থেকে সরাসরি কোনো ফ্লাইট না থাকার কারণে কলম্বো, চেন্নাই অথবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে যেতে হতো। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি খরচ হতো। সেই ভোগান্তি দূর করার জন্য আমরা সরাসরি ঢাকা-মালদ্বীপ ফ্লাইট চালু করেছি।

এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে রিয়াদ ও মদিনা রুটে আমরা ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা করেছি। এর জন্য আমাদের বহরে এয়ারবাস-৩৩০ যোগ করতে হবে। সেটি ২০২৫ সালের মধ্যেই সম্ভব হবে বলে আশা করছি। এছাড়াও ২০২৬ সালের দিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ ইতালির রোমে ও ২০২৭ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক ও কানাডার টরেন্টোতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ইউএস-বাংলা ড্যাশ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রা শুরু করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সকল বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে স্বল্পতম সময়ে আকাশপথের যোগাযোগব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে ইউএস-বাংলা।

যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা যাত্রা শুরুর দুই বছরের মধ্যে ১৫ মে ২০১৬ তারিখে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলে। ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাসকাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু।

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে ২৪টি এয়ারক্রাফট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২টি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ১০টি এটিআর ৭২-৬০০ এবং ৩টি ড্যাশ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট আছে। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের অধিক অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলার।

যাত্রীসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করায় ইউএস-বাংলা দেশীয় এয়ারলাইনস হিসেবে যাত্রীদের কাছে আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ইউএস-বাংলার; যা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে করছে আরও সুদৃঢ়।

ইউএস-বাংলার টিকিট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস সুবিধা। দেশে এবং দেশের বাইরে নিজস্ব ৪০টির বেশি সেলস অফিস রয়েছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ প্রোগ্রাম।

জাতীয়

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, […]

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৯

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, এবং সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সচিব ও প্রধান কর্মকর্তারা।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে বাড়বে কেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা

বৈঠকে ইসি সচিবালয় জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটকেন্দ্র তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি বাজেট, জনবল ও লজিস্টিক প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যদি দুটি ভোট পৃথক দিনে হয়, তবে ব্যয় ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্বিগুণ হবে, যা অর্থ বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সম্ভব নয় বলে ইসি জানায়।

মাঠ প্রশাসন ও অবকাঠামো প্রস্তুতির নির্দেশ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনি সময় মাঠ প্রশাসনকে হেলিপ্যাডগুলো সংস্কার করতে হবে, যাতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি উপজেলায় একটি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে থাকবেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজগুলোর সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ থাকে এবং অনিয়ম হলে পরবর্তীতে শনাক্ত করা যায়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিটিভি ব্যবহারের পরিকল্পনা

ইসি জানিয়েছে, বিটিভি ও সংসদ টেলিভিশনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোট ও নির্বাচনি সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। ভোটারদের সচেতন করতে নিউজ ও ফ্ল্যাশ বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে বা আলাদা দিনে হবে কিনা, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

বাজেট ও জনবল প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। প্রশাসন সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করবে। যদি দুটি ভোট একসঙ্গে হয়, ব্যয় বাড়বে, তাই আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থ বিভাগের সচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ব্যয় অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সময়মতো বাজেট ছাড় দেওয়া যায়।”

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এতে সরকারি শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষ শিক্ষকের তালিকা তৈরিতে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ও এআই মনিটরিং সেল

ইসি জানায়, প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলক পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ ১৬ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া প্রচারণা রোধে একটি এআই-নির্ভর মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এই সেল বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

পরিশেষে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সহজে অংশ নিতে পারেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই সব মন্ত্রণালয়কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।”

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’