অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকালেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে উপস্থিত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনরত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে কথা বলেন তিনি। তার সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলী উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের যদি ভারতে পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তাদের ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি জানান, এই মামলার সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে নির্ভুল চার্জশিট আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে জমা দেওয়া হবে। চার্জশিট দাখিলের পর অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালীন সময়েই যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা যায়, সেই নিশ্চয়তাও তিনি দেন।
তিনি বলেন, “সব রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট সুনির্দিষ্টভাবে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়া হবে। এই চার্জশিট দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার থাকার সময়ে যেন দ্রুত বিচার করে যাওয়া যায়, তার নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা থাকতে থাকতেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতে আছিয়ার ঘটনার মতো উদাহরণ রয়েছে, যেখানে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণেই তদন্তে কোনো ধরনের ত্রুটি না রেখে, সব দিক যাচাই-বাছাই করে চার্জশিট দেওয়া হবে, যাতে বিচারের সময় কোনো আইনি জটিলতা না থাকে।
তিনি বলেন, “অনেকসময় অপরাধী পালিয়েও থাকে, তাহলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এমন হয়েছে।” যারা শহীদ হাদিকে হত্যা করেছে, তারা যদি দেশের বাইরে পালিয়ে গিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রেও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারত সরকার এই বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
তদন্তের স্বার্থে কিছু বিষয়ে বিস্তারিত বলতে অপারগতা প্রকাশ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি জানান, সরকার শহীদ হাদির পরিবারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালীন সময়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে।