ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি–এর জানাজা নামাজ উপলক্ষে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জানাজা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডিএমপি জানায়, জানাজাস্থলে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। এর মাধ্যমে জানাজা চলাকালে পুরো এলাকা নিবিড়ভাবে নজরদারির আওতায় থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতিকে সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিক তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট–এর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
জানাজাকে কেন্দ্র করে যানজট এড়াতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ আগেই বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, হাদির জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি জামায়াত, এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বড় জনসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয় এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রাখা হয়। আজ দুপুর ২টায় তার জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।