একই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির দুই বিপ্লবী। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও জুলাই বিপ্লবী জান্নাত আরা রুমীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ওই দিন রাতেই ইন্তেকাল করেন জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওসমান হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর ভাই ওমর হাদি। একই সঙ্গে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায় ওসমান হাদির ওপর। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
রাজনৈতিকভাবে ওসমান হাদি আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় প্রভাববিরোধী রাজনীতিতে সোচ্চার ছিলেন। মাঠের বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করতেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর প্রচারণার ধরন, বক্তব্য ও কৌশল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।
নির্বাচনি প্রচারণার নানা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচারণার সময় কেউ তাঁর পকেটে টাকা দিচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও বিশেষভাবে ভাইরাল হয়। ভোররাতে মসজিদের সামনে লিফলেট বিতরণ, নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ,
ডোনেশনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার বিভিন্ন ভিডিও তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতেন। এসব কর্মকাণ্ডে যেমন তিনি ইতিবাচক আলোচনায় এসেছেন, তেমনি নানা কারণে বিতর্কের মুখেও পড়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা।
অন্যদিকে একই দিন সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রী জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন অভিযোগ করে বলেন, ক্রমাগত হুমকি ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে জান্নাত আরা রুমী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। তিনি দাবি করেন, তথ্য-প্রমাণসহ অভিযুক্তদের ফেসবুক আইডি ও ফোন নম্বর পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সামান্তা শারমিন বলেন, ওসমান হাদির মাথা ভেদ করে যাওয়া বুলেট যেমন আন্দোলনের কর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে, তেমনি জান্নাত আরা রুমীর ঝুলন্ত মরদেহও দেশের মানুষের সামনে গভীর প্রশ্ন ও শোকের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এই দুটি মৃত্যুকে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্য এক গভীর ক্ষতি হিসেবে দেখছে দলটি।