উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বর এলাকার একটি জিম থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
এ মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর ছাড়াও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন—ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ। মামলাটি দায়ের করেন জুলাই রেভ্যুলেশনারি এলায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরও তার অনুসারীরা দেশে থেকে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে নিষিদ্ধ সংগঠন পুনর্বাসনের পক্ষে বক্তব্য ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এতে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী অনলাইন পোস্ট, মন্তব্য এবং বিভিন্ন লিংক সংগ্রহ করে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ, পলাতক আসামিদের শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য উদ্ধারের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের আদেশে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।