ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় সন্দেহভাজনদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, “সবকিছু এখানে বলা যাবে না।”
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে তার কার্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) একটি প্রতিনিধি দল হাদি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবিতে একটি লিখিত আবেদন জমা দেয়।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে হাদিকে গুলির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা কীভাবে ভারতে পালিয়ে গেলেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমরা পরে কথা বলবো।” অভিযুক্তরা দেশে আছেন নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেন—এমন প্রশ্নে তিনি আবারও বলেন, “সবকিছু তো এখানে বলা যাবে না।”
হাদির ওপর হামলার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “গতকাল মিটিংয়েও আমরা বলেছি, এসব কার্যক্রম আরও বেগবান করতে হবে। এই যৌক্তিক দাবিগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ওসমান হাদি এখন গুরুতর অসুস্থ। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।”
অভিযোগ রয়েছে, হাদিকে গুলি করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী ছিলেন মোটরসাইকেলচালক আলমগীর। তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পর তারা একাধিক যানবাহন বদলে সীমান্তে পৌঁছান এবং সীমান্ত পার হওয়ার পর তাদের অন্য ব্যক্তিরা রিসিভ করেন।
এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছেন ভাই ওমর বিন হাদি এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আমিনুল হাসান ফয়সাল।