রাজধানীর বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় এবার নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর এলাকায় প্রচার চালানোর প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারাত্মক আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট দিয়ে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাসপাতালে আনার সময় হাদির অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাকে সিপিআর দিতে হয়। মাথার ভেতরে গুলি থাকার পাশাপাশি কানের আশপাশেও গুরুতর আঘাত রয়েছে।
পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আইসিইউ-সংবলিত বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ড. মির্জা গালিব ওসমান হাদিকে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে লেখেন, “ওসমান হাদি জুলাইয়ের আইকনিক ফিগার, আমাদের সময়ের নায়ক।”
তিনি আরও লেখেন, “হাদিদের কোনো ভয় নেই, কোনো মৃত্যু নেই। যারা কাপুরুষের মতো গুলি করে বিপ্লবকে শেষ করতে চায়, তারা জেনে রাখো—আমাদের বিপ্লব চলবেই। হাসবুনাল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এমন একটি হামলা শুধু একজন প্রার্থীর ওপর আঘাত নয়, বরং জুলাই আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ধারার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এই ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।