জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু মিথ্যা মামলা হয়েছে, তবে সেগুলো ঠেকাতে সরকার সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের পর পুলিশ নিজের উদ্যোগে কোনো রাজনৈতিক মামলার বাদী হয়নি। কিন্তু ভিকটিম বা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে শতাধিক নাম উল্লেখ করে যে মিথ্যা মামলা হয়েছে, সেগুলো প্রতিরোধে আইনি কাঠামোয় নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে।”
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত মানবাধিকার দিবসের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইউএন হিউম্যান রাইটস অফিস বাংলাদেশ ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর একটি জোরপূর্ব গুমের ঘটনাও ঘটেনি। মানবাধিকার সংগঠন কিংবা গণমাধ্যম কেউই এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি। এটি জাতি হিসেবে আমাদের একটি বড় অর্জন।” তিনি আরো জানান, অভ্যুত্থানের পর ক্রসফায়ারের কোনো ঘটনাও ঘটেনি, যা সরকারের মানবাধিকার প্রতিশ্রুতির ইতিবাচক প্রতিফলন।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “নৈরাজ্যবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রযন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু জুলাই পরবর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে মিথ্যা মামলা যাতে দায়ের না হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে বলেছে।”
মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আইনি সংস্কারের বিষয়টি উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধিতে নতুন ধারা ১৭৩(এ) সংযোজন করা হয়েছে। এতে জেলা পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার মিথ্যা মামলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করে আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবেন। ইতোমধ্যে বহু মামলায় এই আইনের প্রয়োগ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের প্রধান হুমা খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির পথে থাকলেও এখনো পুরোনো অনেক সংস্কৃতি বিদ্যমান। সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকারকে আরও কাজ করতে হবে।”