জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ অজ্ঞাত ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্তে আজ রোববার লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে। রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা এসব লাশ তোলা হবে সকালে এবং প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রত্যেকটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে বলে জানা গেছে।
সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক অ্যানথ্রোপোলজিস্ট ও ফরেনসিক কনসালট্যান্টরা现场 উপস্থিত থেকে লাশ উত্তোলন, নমুনা সংগ্রহ ও ময়নাতদন্তসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। উত্তোলনের পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাশগুলো আবার দাফন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রায়েরবাজার কবরস্থানের যে এলাকায় অজ্ঞাত শহিদদের দাফন করা হয়েছিল, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সেই স্থানে বিশেষভাবে মার্বেল পাথর ও টাইলস দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে লাশ উত্তোলন ও পুনর্দাফনের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সুবিধা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৪ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম আদালতে আবেদনটি করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহিদদের পরিচয় নিশ্চিত করা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের প্রত্যাশা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হলে নিখোঁজদের পরিবারগুলো বহুদিনের অপেক্ষার অবসান পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিচয় মিললে প্রতিবাদী সেই ইতিহাসের অংশ হওয়া শহিদদের মর্যাদা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন।
সবশেষ ১১৪ জন অজ্ঞাত শহিদের পরিচয় শনাক্তের এ উদ্যোগকে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে দেশবাসী।