বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি জানান, আজ রাতের মধ্যেই বা সর্বোচ্চ শুক্রবার সকাল নাগাদ বেগম জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। তার চিকিৎসার জন্য লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও চোখের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সংক্রমণ তীব্র হলে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ২৭ নভেম্বর তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
টানা ১২ দিন ধরে চিকিৎসাধীন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখনো ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ অবস্থায় আছেন, যদিও চিকিৎসকদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মেডিকেল বোর্ড।
চিকিৎসকরা জানান, তার ফুসফুসে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চতুর্থ তলায় মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হচ্ছে। কিডনি কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নিবিড় চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আগেই জানানো হয়েছিল, এবং লন্ডনেই তার উন্নততর চিকিৎসার ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
বুধবার রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত আপডেট নেন এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কাতার সরকার ইতোমধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। বিএনপির আবেদনের পর দ্রুত সাড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেয়। চিকিৎসা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, শারীরিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে শুক্রবার সকাল নাগাদ বেগম জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দোয়া চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের নজর এখন তার লন্ডন যাত্রা ও পরবর্তী চিকিৎসার দিকে।