বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তার এই পরিদর্শনকে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসক দলের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। চিকিৎসকরা তাকে জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে কিডনি ও লিভারের জটিলতার কারণে তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক, তবে চিকিৎসা দল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার পরিবারকেও সান্ত্বনা দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার নিয়ে যিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন—তার চিকিৎসায় সরকার সবকিছু করবে।” তিনি জাতির কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সদস্যরা, প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ হাসপাতালের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। নিরাপত্তা-সংকট বিবেচনায় হাসপাতাল চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া উচিত। অন্যদিকে সরকার বলছে, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিদিনই উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে নানামুখী চিকিৎসা দিচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টার এ পরিদর্শন দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।