সৌদি আরব থেকে আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরা যাত্রীদের ব্যাগ কাটাছেঁড়া এবং মালামাল হারানোর ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রচণ্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগমনী বেল্টে ব্যাগ সংগ্রহের সময় প্রায় সব যাত্রীর লাগেজ কাটা এবং ভেতরের মালামাল উধাও দেখে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তারা ভিডিও ধারণ করে এবং দায়ী মনে করা স্টাফদের দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটির মূল উৎস দেশের ভেতর নয়, বরং সৌদির অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং আউট পাস যাত্রীদের যে যৌথ ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা সেখানে চালু থাকে তার জটিলতা থেকেই সমস্যা তৈরি হয়। সৌদিতে কাগজপত্রের জটিলতা, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা, কিংবা বিভিন্ন অভিযোগে আটক থাকা ব্যক্তিদের আউট পাসে ফেরত পাঠানো হয় এবং এসব যাত্রীর ব্যাগ ব্যক্তিগতভাবে আলাদা রাখা হয় না। মাথাপিছু প্রায় পনেরো কেজি করে সব মালামাল একত্রে বুকিং করা হয়, ফলে কোন ব্যাগে কার মাল আছে তা নিশ্চিত করেই দেশে পাঠানো সম্ভব হয় না।
১৪ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে আউট পাস নিয়ে ফিরে আসা ৭৮ যাত্রী ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। আগমনী বেল্টে ব্যাগ হাতে নেওয়ার পরে দেখা যায় বেশির ভাগের ব্যাগ আগে থেকেই কাটা, সেলাই ভাঙা, এবং অনেকের মালামাল নেই। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীরা দায় নির্ধারণে উত্তেজিত হন।
ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। সৌদি থেকে আউট পাস যাত্রীদের ব্যাগ প্রক্রিয়াকরণের সময় সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশ অনেক মালামাল জব্দ করে রাখে, যা এয়ারলাইনসকে জানানোও হয় না। ফলে দেশে পৌঁছে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে। তারা বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
বেবিচক জানায়, দেশে এসে যাত্রীরা ব্যাগ সংগ্রহের সময় সমস্যায় পড়লেও প্রকৃত কারণ সৌদির নিজস্ব আইনগত প্রক্রিয়া এবং ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা। তাই ভুল বোঝাবুঝি কমাতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।