রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত ঘর পুড়ে গেছে, নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু পরিবার। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে এক জরুরি প্রেস বিবৃতিতে তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা এবং আহতদের জন্য দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে যারা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন, তাদের দুঃখ–কষ্ট আমাদের সকলের বেদনার। এই মুহূর্তে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে এবং থাকবে।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা গ্রহণ করবে।
বিবৃতিতে তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে উদ্ধারকার্য আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, বড় শহরগুলোতে বস্তির বাসিন্দারা অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকেন। তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
কড়াইল বস্তির আগুনে বহু পরিবার রাতারাতি সর্বস্ব হারিয়েছে, শিশু এবং বৃদ্ধদের অবস্থাও উদ্বেগজনক। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান—যে যার অবস্থান থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এখন মানবিক দায়িত্ব।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করবে।”