প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোই ভেঙে পড়তে পারে। সংবিধান তখন কার্যত নির্বাক হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের আশা ধ্বংস হয়।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীল সময়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। বিচার বিভাগের সংস্কারকে তিনি শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের ন্যায়, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম হিসেবে দেখেন। জুলাই বিপ্লবের সময়কার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে
প্রধান বিচারপতি জানান—স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুত সাড়া প্রদান সে সময় জনআন্দোলনের প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছিল। অনিশ্চয়তার সেই সময়কালে বিচার বিভাগই ছিল কার্যকর সাংবিধানিক অবলম্বন, যেখানে একইসঙ্গে দৃঢ়তা ও বিনয় প্রদর্শনের প্রয়োজন ছিল।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এ প্রেক্ষাপট থেকেই ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর সংস্কার রোডম্যাপের জন্ম, যা বিচার ব্যবস্থাকে কাঠামোগতভাবে আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। গত কয়েক মাসের বিচারিক রোডশোর মাধ্যমে এ রোডম্যাপ দেশব্যাপী প্রচার করা হয়েছে। এতে আইনজীবী সমাজ ও বিচার বিভাগের দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সেই রায় বিচার বিভাগের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করেছে এবং রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভের একটিতে পরিণত হওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সার্ভিস কাঠামো, ক্যারিয়ার পথ এবং সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েট অর্ডিন্যান্স–এসব সংস্কার শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং সাংবিধানিক পুনর্গঠনের অংশ।
শেষে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগ সংবিধানকে রূপান্তরকালীন ন্যায়বিচারের নোঙর হিসেবে দেখছে। তবে জনগণ চাইলে সংবিধান পুনর্গঠন করার ক্ষমতা রাখে—এ সত্যকে হুমকি নয়, বরং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।