আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা নির্বাচনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক উপমন্ত্রী পাসকাল গ্রোটেনহুইসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এ বক্তব্য দেন। বৈঠকে কৃষি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যুব উন্নয়ন এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “রেকর্ডসংখ্যক তরুণ এবার প্রথমবার ভোট দিতে পারবেন। এর আগে স্বৈরশাসনের অধীনে টানা তিনটি কারচুপির নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ‘দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা’ তরুণরা এবার নিজের হাতে ভোট দিতে পারবে—যা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বৈঠকে ডাচ উপমন্ত্রী বাংলাদেশের নির্বাচন প্রস্তুতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্বল্পসময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ অসাধারণ অগ্রগতি দেখিয়েছে। একইসঙ্গে সদ্য প্রণীত শ্রম আইনেরও প্রশংসা করেন তিনি, যা ইউরোপীয় ও ডাচ বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি জানান, নেদারল্যান্ডস শিগগিরই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে পিপিপি খাতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। ডাচ প্রতিনিধি দল আরও জানায়, ৫০ বছরের উন্নয়ন অংশীদারত্ব এখন বাণিজ্য, রাজনীতি ও বিনিয়োগভিত্তিক সমতাপূর্ণ সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ডাচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।