ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঐতিহাসিক মামলার রায় সোমবার সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় রায় দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই রায়কে ঘিরে তীব্র আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুই ট্রাইব্যুনালে নিয়মিত বিচার কাজ চলা অবস্থায় সোমবারের রায়কে কেন্দ্র করে গ্রহণ করা হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ এ রায় ঘোষণা করা হবে এবং রায় ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই তা পুরো বিশ্বে সম্প্রচার হবে। তিনি আরও বলেন, নারী আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কোনো অনুকম্পার সুযোগ নেই; সর্বোচ্চ শাস্তি হলে তা আইন অনুযায়ী কার্যকর হবে।
রায়ের পর সাজা হলে ইন্টারপোলে পরোয়ানা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটি শুনানি করেন। সহকারী বিচারক ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের বীভৎসতার বিবরণ দিয়ে প্রথম সাক্ষ্য দেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। মোট ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দেন ৫৪ জন। ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদাহরণ তুলে ধরে যুক্তি দেন, গুরুতর অভিযোগের কারণে শেখ হাসিনাও বিচারের আওতার বাইরে নন।
প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুল হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনা। আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার দালিলে রয়েছে শহীদদের তালিকা, জব্দ করা প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিবরণ।
সোমবারের এই রায়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লেও দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলে নজিরবিহীন গুরুত্ব নিয়ে দেখা হচ্ছে বহুল আলোচিত এই রায়কে—যা সরাসরি দেখবে পুরো বিশ্ব।