অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের হাতে আর কয়েক মাস সময় আছে। এই স্বল্প সময়ে দেশকে একটি সুগঠিত অবস্থায় রেখে যেতে চান তারা, যাতে আগামী সরকার দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী আয়োজন ছিল এটি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান ও সদস্য জি. এম. আবুল কালাম কায়কোবাদ। সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এনবিআর সদস্য মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেশের বাইরে বাংলাদেশের ইমেজ এখন খুবই ভালো। বাংলাদেশ যেভাবে এগোচ্ছে, আন্তর্জাতিক মহলেও তার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ ভালো করছে—আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও এমন মন্তব্য করেছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আরও দ্রুত এগোতে হলে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।
এনবিআর পৃথকীকরণ ইস্যুতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে তিনি বিষয়টি ভুলে গেছেন। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ নয় জানিয়ে বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি এক থেকে দেড় মাস অপেক্ষা করেছেন, কাউকে শাস্তি দেননি।
উল্লেখ্য, এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের উদ্যোগের পর টানা তিন মাস আন্দোলন করেন কর্মকর্তারা। এ সময় প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, এবং আরও অনেকে বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন।
এই প্রসঙ্গেই অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যারা আন্দোলন করেছেন তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে—তবুও বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় তা দেখবেন। তার মতে, কর্মপরিবেশ ভালো না থাকলে কর্মস্পৃহা কমে যায়। এনবিআরের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই বলেও পরিষ্কার করেন তিনি।
রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, জোর করে রাজস্ব বাড়ানো যায় না। এজন্য দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং সফট স্কিল বাড়াতে হবে কর্মকর্তাদের।