বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক–সামাজিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকা পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী জেনি চ্যাপম্যান। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর।
এই সফরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, অনিয়মিত অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবিক সহায়তা—এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ দূতাবাস জানায়, মন্ত্রী চ্যাপম্যান রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যাতে তাদের দুরবস্থার বাস্তব চিত্র সরাসরি জানতে পারেন এবং সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারেন।
জানা গেছে, জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশকে নতুন আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন যুক্তরাজ্যের এই মন্ত্রী। স্থিতিস্থাপকতা এবং অভিযোজন কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্যপীড়িত ও খাদ্য-নিরাপত্তাহীন পরিবারগুলোর সহায়তায় যুক্তরাজ্য বড় ধরনের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে—
মৌসুমি বন্যা মোকাবিলা
ঘূর্ণিঝড় সহনশীল কৃষি কৌশল
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মানুষকে দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান
ঢাকা সফরে চ্যাপম্যান বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি যুক্তরাজ্য–বাংলাদেশ অনিয়মিত অভিবাসন সহযোগিতা বিষয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেবেন।
তার সফর প্রসঙ্গে জেনি চ্যাপম্যান বলেন,
“যুক্তরাজ্য সত্যিকারের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত। রোহিঙ্গা সংকট থেকে শুরু করে জলবায়ু জরুরি অবস্থা মোকাবিলা—সব ক্ষেত্রেই আমাদের যৌথ উদ্যোগ বাস্তব ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন,
“এই সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদারত্বকে আরও দৃঢ় করবে।”