ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে নিজের স্বার্থে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দামি আইনজীবী নিয়োগ দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই অভিযোগ করেন।
শফিকুল আলম লেখেন, “নিজের জনগণের ওপর গণহত্যা চালানোর পর যেমন উগান্ডার একনায়ক ইদি আমিন নির্বাসনে গিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় নীরব জীবন কাটিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু পার্থক্য একটাই— টাকায়।”
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার কাছে থাকা বিপুল অর্থ দিয়ে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোতে পিআর (পাবলিক রিলেশন) প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আইন সংস্থাগুলোর সহায়তা নিচ্ছেন। “তার জন্য পিআর এজেন্সিগুলো সাজিয়ে রেখেছে একের পর এক সাক্ষাৎকার, যেগুলো কৌশলে ‘ইমেইলে নেওয়া’ বলে চালানো হচ্ছে,”— লিখেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আরও লেখেন, পশ্চিমা সাংবাদিকরাও নিশ্চিত নন যে এসব ‘ইমেইল সাক্ষাৎকারে’ উত্তরগুলো সত্যিই শেখ হাসিনা নিজে দিচ্ছেন, নাকি তার পিআর টিম তৈরি করে দিচ্ছে। “তবুও তারা সেই সাক্ষাৎকার ছাপছে, কারণ এর পেছনে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা,”— উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বৈরশাসক ও দুর্নীতিবাজদের জন্য পিআর এজেন্সি ও আইনজীবীরা ‘নির্দোষতার মিথ্যা চিত্র’ তৈরি করে দেয়, যার আড়ালে চাপা পড়ে যায় বাস্তব নৃশংসতা। চিলির একনায়ক পিনোশে এবং আইএমএফ প্রধান স্ট্রস-কানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা টাকার জোরে সাময়িক আইনি সুরক্ষা পেলেও শেষ পর্যন্ত বিচার এড়াতে পারেননি।
স্ট্যাটাসের শেষে শফিকুল আলম বলেন, “আগামী সপ্তাহগুলোতে শেখ হাসিনার আরও ‘ইমেইল সাক্ষাৎকার’ প্রকাশিত হবে, যেগুলো কোনোভাবেই বাস্তব নয়, বরং কোটি কোটি টাকার পিআর প্রচারণার অংশ।”