অতীতের অস্বচ্ছতা ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, “অতীতের কলঙ্ক মুছতে হলে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এটি শুধু কমিশনের নয়, পুরো জাতির দায়িত্ব।”
সোমবার (১০ নভেম্বর) কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) সম্মেলন কক্ষে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসন, পুলিশ, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষতা, সাহস ও পেশাদারিত্ব অপরিহার্য। এককভাবে কেউ ভালো নির্বাচন করতে পারে না— সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল নির্বাচন সম্ভব।”
প্রিজাইডিং অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণের সময় কোনো ভয়, চাপ বা প্রভাবকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দায়িত্ব পালনকালে মনে রাখতে হবে— এটি শুধুমাত্র একটি চাকরি নয়, জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা। সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচনের জন্য এখন এক ধরনের জিহাদ ঘোষণা করেছে। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কমিশন সর্বোচ্চ প্রয়াস চালাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসি সচিবালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুল হালিম খান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার, জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম এবং জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসাররা অংশগ্রহণ করেন।