তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের আপিল শুনানি চলছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। রোববার (২ নভেম্বর) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট আপিল বেঞ্চে এ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি শুরু হয়।
বিএনপির পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আর রাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আদালতকক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে ও বিপক্ষে পক্ষ দুটির মধ্যে তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী শুনানি চলছে।
এর আগে জামায়াতে ইসলামী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পক্ষে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে শুনানি শেষ করেছে। জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির আদালতে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও তা কার্যকর করার বিষয়টি একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দেবেন—কবে থেকে এটি কার্যকর হবে এবং কীভাবে।”
গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ এবং আপিলের অনুমতি দেন। এরপর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল দায়ের করেন।
২০১১ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবে। তবে জনগণের আস্থার প্রশ্নে সেই রায়ের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক থেমে নেই।
বর্তমানে এই শুনানিকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ও আগ্রহ দুই-ই বিরাজ করছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বলছে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও আস্থার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারই নির্বাচন পরিচালনা করবে, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় ফেরা সম্ভব নয়।