বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গঠনে সমবায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
আগামীকাল শুক্রবার (১ নভেম্বর) সারা দেশে পালিত হতে যাচ্ছে ‘৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস’। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি সব সমবায়ী ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ড. ইউনূস বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমবায় খাতকে আধুনিক, টেকসই ও গতিশীল করতে ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, কুটিরশিল্প ও ক্ষুদ্রঋণসহ বিভিন্ন খাতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সমবায় শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এর অবদান অসাধারণ।”
প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, সমাজে বৈষম্য দূর করতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায় খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, “দেশ ও জনগণের উন্নয়নে সামাজিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমবায়ের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা অনায়াসেই দারিদ্র্য বিমোচন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে পারি।”
তিনি আহ্বান জানান, “আসুন, সমবায়ের চেতনাকে ধারণ করে আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি নতুন বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে না বৈষম্য, থাকবে সমতা ও সাম্য।”
প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন, “এ উদ্যোগগুলোই আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”