একবিংশ শতাব্দীতে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আর কেউ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশন কেউ করেনি। তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একাধিক রিপোর্টেই এটি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।”
তিনি জানান, বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, “সাক্ষাৎকারটি এখনো পড়িনি, তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করবে।”
শফিকুল আলম আরও বলেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার যারা নিচ্ছেন, তাদের উচিত তার অতীতের কর্মকাণ্ড ভুলে না যাওয়া। জাতিসংঘের রিপোর্টেই প্রমাণিত, তার আমলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। আরও দুটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, তিনি নিজে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।”
রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে সুযোগ না দিলে তারা ভোট বর্জন করতে পারে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “আমরা কোথাও আওয়ামী লীগকে দেখি নাই। দু-একটা ঝটিকা মিছিল হয়তো হয়, সেই অনুযায়ী কেউ কেউ কিছু অর্থ পায়—এই পর্যন্তই।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “দেশের টাকা চুরি করে শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দামি আইনজীবী প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছেন, যেন আন্তর্জাতিক আদালতে নিজের দায়মুক্তির প্রচার চালানো যায়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের ভেতর থেকেও কেউ কেউ এ অপচেষ্টাকে প্রমোট করছে।”
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “একটি স্থানীয় গণমাধ্যমেও দেখা গেছে, আইসিসিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে দাবি দাখিল করা হয়েছে, সেখানে শেখ হাসিনার ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো উল্লেখই নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও একপক্ষীয় প্রচেষ্টা।”