আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নিজ জেলা বা শ্বশুরবাড়ির এলাকায় কোনো কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি বিষয়ক সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, “মাঠ প্রশাসনে ডিসি, এডিসি, ইউএনওসহ বিচারিক দায়িত্বে এমন কাউকে পদায়ন করা হবে না, যিনি গত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্বে ছিলেন। এমনকি ন্যূনতম সম্পৃক্ততা থাকলেও এবার তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”
তিনি জানান, পদায়নের সময় কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, কর্মদক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা ও গণমাধ্যমে অনিয়মের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হবে। সবচেয়ে যোগ্য ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পদায়ন করা হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে মাঠ প্রশাসনে পদায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
শফিকুল আলম আরও বলেন, “যাদের নিজ জেলা বা শ্বশুরবাড়ি এলাকায় আত্মীয়-স্বজন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, তাদেরও সেই এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, একই প্রক্রিয়ায় পুলিশ প্রশাসনেও পদায়ন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার এসপিদের তালিকা চূড়ান্তের পথে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, সেনাবাহিনী নির্বাচনের সময় মাঠে থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯০ হাজার সেনাসদস্য ও ২ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য দেশব্যাপী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি জেলায় একটি করে সেনা কোম্পানি অবস্থান করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা নির্বাচনের আগে ও পরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।