সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত-এনসিপি : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বুধবার দল দুটির প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে […]

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত-এনসিপি : প্রধান উপদেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২০

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বুধবার দল দুটির প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম ও রফিকুল ইসলাম খান। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে যা জানিয়েছে এনসিপি : প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আগে আমরা এর বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাই।

সনদের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান সরকারের কাছে তুলে ধরেছি, তবে কেবল কাগজে-কলমে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে এনসিপি বিশ্বাস করে না। বাস্তবে কিভাবে তা কার্যকর হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা মিললেই আমরা স্বাক্ষর করব। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।’

তিন দফা দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের দাবিগুলো হচ্ছে—জুলাই সনদের আদেশ কেবল ড. মুহাম্মদ ইউনূসই জারি করবেন; ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না; এবং জুলাই সনদের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে গণভোটের মাধ্যমে।

এই তিনটি দাবি বিবেচনায় নিলে এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।” তিনি আরো জানান, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হবে গণভোটের পর, তার আগে নয়। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার জুলাই সনদের আওতাভুক্ত একটি বিষয়। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে হয়, তাহলে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজন করা অন্তর্বর্তী সরকারেরই দায়িত্ব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। কমিশনের গঠনপ্রক্রিয়া এবং বর্তমান কার্যক্রম আমাদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মনে হচ্ছে না। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের যেভাবে কাজ করা উচিত ছিল, সেটি তারা করছে না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন থাকা জরুরি।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে না হয়, তবে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে। এ বিষয়ে আমরা সরকারকে অবহিত করেছি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছি।’

দলীয় প্রতীক প্রসঙ্গে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাপলা প্রতীক ছাড়া আমরা অন্য প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেব না। নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের প্রতীক নিয়ে স্পষ্ট কোনো আইনি ব্যাখ্যা না দিয়ে জোর করে অন্য প্রতীক চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে আমরা তা বিশ্বাস করি না। শাপলা না দেওয়ার আইনি ব্যাখা দিলে অন্য প্রতীকের বিষয় বিবেচনা করব।’ নাহিদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযোগের কারণে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশে শহীদ ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে যে মামলাগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী তা এখনো পরিষ্কার নয়। পত্রপত্রিকায় আমরা দেখছি, আসামিরা জামিনে মুক্তি পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তার জন্য একটি রোডম্যাপ চেয়েছি। সেই রোডম্যাপ যেন প্রকাশ করা হয়। আট শর বেশি মামলা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী, কিভাবে সেগুলো পরিচালিত হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে, এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা দরকার।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জনপ্রশাসনে যেসব বদলি হচ্ছে, তা কিসের ভিত্তিতে হচ্ছে? এসব পদায়ন ও বদলি কি আদৌ দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, নাকি অন্য কোনো বিবেচনায়? আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভাগবাটোয়ারা চলছে। নিজেদের বড় রাজনৈতিক দল দাবি করা কিছু সংগঠন এসপি, ডিসি—এমনকি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও প্রভাব রাখার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরো বলেন, এই দলগুলো নির্বাচনের জন্য তালিকা তৈরি করে তা সরকারের কাছে জমা দিচ্ছে। এমনকি উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেও তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এ ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে যেন প্রধান উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি—ছাত্র উপদেষ্টাদের যদি কোনো নির্দিষ্ট দলের সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখা হয়, তাহলে অন্যান্য দলের সুপারিশে যাঁরা উপদেষ্টা পরিষদে ঠাঁই পেয়েছেন তাঁদেরও একইভাবে দেখতে হবে। যে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন তাঁরা কোনো দলের প্রতিনিধি হয়ে নয়, গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে যা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী : প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে একমত জামায়াত সনদে সাক্ষর করেছে, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা এ কারণে আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। সবাই স্বাক্ষর করেছি। এখন প্রয়োজন একে আইনি ভিত্তি দেওয়া। বাস্তবায়নও দরকার। নির্বাচন সম্পৃক্ত যেসব বিষয় আছে তা আগেই পাস করিয়ে তার ভিত্তিতে নির্বাচন দেওয়ার জন্য আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাও একমত হয়ে বলেছেন, এটি যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে পরিশ্রম পণ্ডশ্রম ছাড়া কিছুই না। সংস্কারের আইনি ভিত্তির জন্য এই আদেশ কে দেবেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, যদি আইনে কাভার করে, ব্যত্যয় না হয়, তাহলে আমরা চাই প্রধান উপদেষ্টা এই আদেশ দেবেন। রাষ্ট্রপতি যেন এই আদেশ না দেন।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এখন একটি আদেশের মাধ্যমে এটির সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে। এটি একটি কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট। সরকার এই পরিস্থিতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। আদেশের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে। সেই আদেশের ওপর গণভোট হবে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কথায় একমত হয়েছেন বলে মনে হয়েছে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জনগণের চাপে গণভোটে বিএনপিও রাজি হয়েছে। গণভোট ও নির্বাচন আলাদা জিনিস। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, এই দুটি পৃথক বিষয় এক দিনে হতে পারে না। গণভোটের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে। নির্বাচনের দিন গণভোট হলে আইনগত জটিলতা তৈরি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট না হলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের কল্যাণের জন্য কিছু টাকা অতিরিক্ত খরচ হলেও গণভোট আগে করা ছাড়া উপায় নেই। নোট অব ডিসেন্ট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অযথা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি, যাতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে যেতে পারি। দলটির নায়েবে আমির বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন। রদবদল করা দরকার। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন, লটারির মাধ্যমে পোস্টিং ঠিক করবেন। আমরা এতে একমত হয়েছি।’ দলটির নায়েবে আমির বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ফকিরহাটে শিবিরের ওপর হামলা হয়েছে। এভাবে হলে কিভাবে সুষ্ঠু ভোট হবে? সেটাও প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে। আমরা রায়ের অপেক্ষায় আছি। তখন বিষয়টি আলোচনা করব। আইনে কোর্টের আদেশে কোনো ব্যত্যয় না থাকলে এই সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় থাকবে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘কিছু উপদেষ্টার বিষয়ে বলেছি, কিছু লোক আপনাকে বিভ্রান্ত করে। কোনো দলের পক্ষে কাজ করে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। তবে অপসারণের কোনো দাবি করিনি। সুযোগ দিচ্ছি। না হলে যা করণীয় তা করব।’ এর আগে গত মঙ্গলবার বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

প্রধান উপদেষ্টা উভয় দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে তিনি জামায়াত ও এনসিপিসহ সব ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চান।

জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আমরা এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি; সামনে আরো অনেক উদ্যোগ আপনারা দেখতে পাবেন।’

সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে বলেও এনসিপিকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যেকোনো রদবদল তিনি নিজেই সরাসরি তদারকি করবেন।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তিনি নেতাদের আশ্বস্ত করেন।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের […]

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩১

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।