রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত-এনসিপি : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বুধবার দল দুটির প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে […]

জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট চায় জামায়াত-এনসিপি : প্রধান উপদেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১১:২০

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বুধবার দল দুটির প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম ও রফিকুল ইসলাম খান। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে যা জানিয়েছে এনসিপি : প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদে স্বাক্ষরের আগে আমরা এর বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাই।

সনদের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান সরকারের কাছে তুলে ধরেছি, তবে কেবল কাগজে-কলমে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে এনসিপি বিশ্বাস করে না। বাস্তবে কিভাবে তা কার্যকর হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা মিললেই আমরা স্বাক্ষর করব। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।’

তিন দফা দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের দাবিগুলো হচ্ছে—জুলাই সনদের আদেশ কেবল ড. মুহাম্মদ ইউনূসই জারি করবেন; ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না; এবং জুলাই সনদের বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে গণভোটের মাধ্যমে।

এই তিনটি দাবি বিবেচনায় নিলে এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।” তিনি আরো জানান, জুলাই সনদে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হবে গণভোটের পর, তার আগে নয়। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার জুলাই সনদের আওতাভুক্ত একটি বিষয়। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে হয়, তাহলে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজন করা অন্তর্বর্তী সরকারেরই দায়িত্ব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। কমিশনের গঠনপ্রক্রিয়া এবং বর্তমান কার্যক্রম আমাদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মনে হচ্ছে না। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের যেভাবে কাজ করা উচিত ছিল, সেটি তারা করছে না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন থাকা জরুরি।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে না হয়, তবে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে। এ বিষয়ে আমরা সরকারকে অবহিত করেছি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছি।’

দলীয় প্রতীক প্রসঙ্গে মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাপলা প্রতীক ছাড়া আমরা অন্য প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেব না। নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের প্রতীক নিয়ে স্পষ্ট কোনো আইনি ব্যাখ্যা না দিয়ে জোর করে অন্য প্রতীক চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে আমরা তা বিশ্বাস করি না। শাপলা না দেওয়ার আইনি ব্যাখা দিলে অন্য প্রতীকের বিষয় বিবেচনা করব।’ নাহিদ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, আইসিটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযোগের কারণে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশে শহীদ ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে যে মামলাগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী তা এখনো পরিষ্কার নয়। পত্রপত্রিকায় আমরা দেখছি, আসামিরা জামিনে মুক্তি পাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তার জন্য একটি রোডম্যাপ চেয়েছি। সেই রোডম্যাপ যেন প্রকাশ করা হয়। আট শর বেশি মামলা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী, কিভাবে সেগুলো পরিচালিত হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে, এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা দরকার।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জনপ্রশাসনে যেসব বদলি হচ্ছে, তা কিসের ভিত্তিতে হচ্ছে? এসব পদায়ন ও বদলি কি আদৌ দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, নাকি অন্য কোনো বিবেচনায়? আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ভাগবাটোয়ারা চলছে। নিজেদের বড় রাজনৈতিক দল দাবি করা কিছু সংগঠন এসপি, ডিসি—এমনকি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও প্রভাব রাখার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরো বলেন, এই দলগুলো নির্বাচনের জন্য তালিকা তৈরি করে তা সরকারের কাছে জমা দিচ্ছে। এমনকি উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকেও তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, যেসব উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এ ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে যেন প্রধান উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিন। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি—ছাত্র উপদেষ্টাদের যদি কোনো নির্দিষ্ট দলের সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখা হয়, তাহলে অন্যান্য দলের সুপারিশে যাঁরা উপদেষ্টা পরিষদে ঠাঁই পেয়েছেন তাঁদেরও একইভাবে দেখতে হবে। যে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন তাঁরা কোনো দলের প্রতিনিধি হয়ে নয়, গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্বকারী ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে যা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী : প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে একমত জামায়াত সনদে সাক্ষর করেছে, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। প্রধান উপদেষ্টা এ কারণে আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। সবাই স্বাক্ষর করেছি। এখন প্রয়োজন একে আইনি ভিত্তি দেওয়া। বাস্তবায়নও দরকার। নির্বাচন সম্পৃক্ত যেসব বিষয় আছে তা আগেই পাস করিয়ে তার ভিত্তিতে নির্বাচন দেওয়ার জন্য আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাও একমত হয়ে বলেছেন, এটি যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে পরিশ্রম পণ্ডশ্রম ছাড়া কিছুই না। সংস্কারের আইনি ভিত্তির জন্য এই আদেশ কে দেবেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, যদি আইনে কাভার করে, ব্যত্যয় না হয়, তাহলে আমরা চাই প্রধান উপদেষ্টা এই আদেশ দেবেন। রাষ্ট্রপতি যেন এই আদেশ না দেন।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এখন একটি আদেশের মাধ্যমে এটির সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে। এটি একটি কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্ট। সরকার এই পরিস্থিতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। আদেশের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে। সেই আদেশের ওপর গণভোট হবে। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কথায় একমত হয়েছেন বলে মনে হয়েছে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জনগণের চাপে গণভোটে বিএনপিও রাজি হয়েছে। গণভোট ও নির্বাচন আলাদা জিনিস। বিএনপির দাবি অনুযায়ী, এই দুটি পৃথক বিষয় এক দিনে হতে পারে না। গণভোটের জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে। নির্বাচনের দিন গণভোট হলে আইনগত জটিলতা তৈরি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট না হলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের কল্যাণের জন্য কিছু টাকা অতিরিক্ত খরচ হলেও গণভোট আগে করা ছাড়া উপায় নেই। নোট অব ডিসেন্ট নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অযথা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি, যাতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে যেতে পারি। দলটির নায়েবে আমির বলেন, ‘আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন। রদবদল করা দরকার। প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জানিয়েছেন, লটারির মাধ্যমে পোস্টিং ঠিক করবেন। আমরা এতে একমত হয়েছি।’ দলটির নায়েবে আমির বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ফকিরহাটে শিবিরের ওপর হামলা হয়েছে। এভাবে হলে কিভাবে সুষ্ঠু ভোট হবে? সেটাও প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে। আমরা রায়ের অপেক্ষায় আছি। তখন বিষয়টি আলোচনা করব। আইনে কোর্টের আদেশে কোনো ব্যত্যয় না থাকলে এই সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকায় থাকবে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘কিছু উপদেষ্টার বিষয়ে বলেছি, কিছু লোক আপনাকে বিভ্রান্ত করে। কোনো দলের পক্ষে কাজ করে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। তবে অপসারণের কোনো দাবি করিনি। সুযোগ দিচ্ছি। না হলে যা করণীয় তা করব।’ এর আগে গত মঙ্গলবার বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

প্রধান উপদেষ্টা উভয় দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে তিনি জামায়াত ও এনসিপিসহ সব ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চান।

জামায়াত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আমরা এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি; সামনে আরো অনেক উদ্যোগ আপনারা দেখতে পাবেন।’

সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে বলেও এনসিপিকে আশ্বস্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যেকোনো রদবদল তিনি নিজেই সরাসরি তদারকি করবেন।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তিনি নেতাদের আশ্বস্ত করেন।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।