সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বুধবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ অংশে তিন ঘণ্টার যানজটে আটকে থেকে সরাসরি মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান। দীর্ঘ যানজটের দুর্ভোগ দেখার পর তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা জানান, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঢাকায় বসে নয়, সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন বা অফিসে উপস্থিত না থাকেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হবে।”
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, তা মূলত ট্রাফিক বিভাগের গাফিলতির ফল। এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মহাসড়কে কয়েকটি স্থানে সিগন্যাল ও লেন ম্যানেজমেন্টে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। ভারী যানবাহনের চাপ, ওভারটেকিং এবং স্থানীয় যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলই জটের মূল কারণ। এখন থেকে মাঠ পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা থেকে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।”
দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আটকে থাকার পর নিজেই সাধারণ মানুষের মতো পথ চলতে দেখে স্থানীয়রা বিস্মিত হন। বিশ্বরোড মোড়ে উপস্থিত যাত্রী ও দোকানিরা বলেন, “এভাবে একজন উপদেষ্টা নিজে এসে সমস্যার বাস্তব চিত্র দেখেছেন—এটা বিরল ঘটনা।”
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।
উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই, সাধারণ মানুষ যেন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কষ্ট না পায়। এখন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সিলেটগামী ও ঢাকামুখী যান চলাচল নিয়মিত মনিটর করা হবে।”
সড়ক মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ ইতিমধ্যেই যৌথভাবে নতুন ট্রাফিক পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে।