আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষের গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গুম-নির্যাতনের ঘটনায় টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই) ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-এর কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।
প্রথম মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কেএম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসানসহ আরও বেশ কয়েকজন র্যাব কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে টিএফআই সেলে গুম, নির্যাতন ও হত্যার পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকরা—লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ব্রিগেডিয়ার মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকীসহ অন্যরা।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “এই অভিযোগগুলো আমলে নেওয়ার অর্থ হলো—আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে প্রমাণের পথে। চারজন সেনা কর্মকর্তা এখনও কর্মরত আছেন, তবে আইনের আলোকে তারা কোনো পদে থাকতে পারবেন না।”
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হন। অনেকের লাশও পাওয়া যায়নি। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ব্যক্তি, যাদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমদ বীন কাশেম ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই দুটি মামলা দায়ের হয় এবং আজ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী ধাপে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে।