সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

এক মাসের মধ্যেই হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এদিকে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক ৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৩ […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এদিকে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সাবেক ৯ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ১৩ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এছাড়া জানা গেছে, গণহত্যার মামলার তদন্তের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন জানাবে তদন্ত সংস্থা।

যদিও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়েছে। তবে বর্তমানে অন্য মামলায় তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে ২৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্ট গণহত্যার মামলায় কারাবন্দি সাবেক দুই উপদেষ্টা, সাবেক ১০ মন্ত্রী, এক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক এক সচিব, এক বিচারপতিসহ ২০ জনকে হাজির করতে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে উপরের ১৪ জনকে ১৮ নভেম্বর হাজির করতে বলা হয়।

এ ছাড়া পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্তকৃত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, আব্দুল্লাহ আল কাফি, আরাফাত হোসেন, আবুল হাসান ও মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তাদের হাজির করার আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন: বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র করে গত জুলাই ও আগস্টে গণহত্যার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরই অংশ হিসেবে নতুন প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা গঠিত হয়েছে।

বিচারের জন্য আইন সংশোধন ও ভবন মেরামতের কাজও চলমান। গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ, ১৪ দলের নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গুম, হত্যা, গণহত্যাসহ একশর বেশি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়েছে।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর ২০১০ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ওই বছরের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০১৫ সালের পর থেকে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অনেকটা গতি হারিয়ে ফেলে। তবে হাসিনা সরকার পতনের পর ফের ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হয়েছে।

জাতীয়

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, […]

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৯

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, এবং সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সচিব ও প্রধান কর্মকর্তারা।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে বাড়বে কেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা

বৈঠকে ইসি সচিবালয় জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটকেন্দ্র তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি বাজেট, জনবল ও লজিস্টিক প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যদি দুটি ভোট পৃথক দিনে হয়, তবে ব্যয় ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্বিগুণ হবে, যা অর্থ বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সম্ভব নয় বলে ইসি জানায়।

মাঠ প্রশাসন ও অবকাঠামো প্রস্তুতির নির্দেশ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনি সময় মাঠ প্রশাসনকে হেলিপ্যাডগুলো সংস্কার করতে হবে, যাতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি উপজেলায় একটি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে থাকবেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজগুলোর সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ থাকে এবং অনিয়ম হলে পরবর্তীতে শনাক্ত করা যায়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিটিভি ব্যবহারের পরিকল্পনা

ইসি জানিয়েছে, বিটিভি ও সংসদ টেলিভিশনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোট ও নির্বাচনি সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। ভোটারদের সচেতন করতে নিউজ ও ফ্ল্যাশ বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে বা আলাদা দিনে হবে কিনা, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

বাজেট ও জনবল প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। প্রশাসন সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করবে। যদি দুটি ভোট একসঙ্গে হয়, ব্যয় বাড়বে, তাই আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থ বিভাগের সচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ব্যয় অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সময়মতো বাজেট ছাড় দেওয়া যায়।”

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এতে সরকারি শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষ শিক্ষকের তালিকা তৈরিতে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ও এআই মনিটরিং সেল

ইসি জানায়, প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলক পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ ১৬ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া প্রচারণা রোধে একটি এআই-নির্ভর মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এই সেল বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

পরিশেষে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সহজে অংশ নিতে পারেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই সব মন্ত্রণালয়কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।”

জাতীয়

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের একজন ডিআইজির দেহরক্ষীও সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ওই ডিআইজি নিজেই তার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত […]

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

নিউজ ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩১

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের একজন ডিআইজির দেহরক্ষীও সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ওই ডিআইজি নিজেই তার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় ফেরার পর এনায়েত করিম দুদিন ছিলেন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। সেই হোটেল বুকিং ও ভাড়া পরিশোধ করেছিলেন জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম এই তথ্য দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত শনিবার সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্টে উল্লেখ আছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ঢাকা মহানগর ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এনায়েত করিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রমাণ মিললে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, এনায়েত করিম ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একটি প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিলেন। তিনি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কখনো ক্ষমতায় বসানোর আশ্বাস দিয়ে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের পর বিএনপিপন্থী এক সাংবাদিক নেতা এবং নবগঠিত একটি দলের নেতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তিনি প্রতারণা অব্যাহত রাখেন। এর আগেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১–০৬) তাকে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েও তিনি অর্থ নিয়েছেন। আবার ২০২১ সালে র‍্যাব কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির সময় সরকার পরিবর্তনের আভাস দিয়ে কারও কারও কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছিলেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ অবশ্য দাবি করেছেন, এনায়েত করিমের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও এনায়েত করিমের সখ্য ছিল। এনায়েত করিম বাংলাদেশে এলে এরশাদের সঙ্গে দেখা করতেন। মূলত পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণেই এনায়েত করিম বাংলাদেশে এলে তিনি আপ্যায়ন করতেন। এবারও তিনি হোটেল বুকিং ও ভাড়া পরিশোধ করেছেন। মামুনুর রশিদ যখন যুক্তরাষ্ট্রে যান, তখন এনায়েত করিম তাকে আপ্যায়ন করেন। এখানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য কিছু নেই।

কাজী মামুনুর রশিদ দাবি করেন, এনায়েত করিমের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া বা প্রতারণার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সরকার পতনের ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনো বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির সহায়তায় মিন্টো রোড এলাকা থেকে এনায়েত করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি একটি প্রাডো গাড়িতে ছিলেন, যা ভাড়া করেছিলেন একজন ডিআইজি। পদাধিকারবলে ওই ডিআইজির নিরাপত্তার জন্য যে দেহরক্ষী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি এনায়েত করিমের সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন। দেহরক্ষী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি কেবল ডিআইজির নির্দেশ পালন করেছেন। ওই দেহরক্ষীকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, এনায়েত করিম আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ব্যাংকক ও নেপালে একাধিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে চাকরিচ্যুত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও এবার তাকে গাড়ি ও দেহরক্ষী দেওয়া ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন। বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন […]

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:৩০

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন।

এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন।

বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

এছাড়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আকবর। ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকের সবাই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।