ভাষাসৈনিক, চিকিৎসক, গবেষক ও রবীন্দ্রচর্চার অগ্রদূত আহমদ রফিক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১২ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইসমাইল সাদী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আহমদ রফিক। অবস্থা গুরুতর হলে বুধবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়।
২০১৯ সাল থেকে ধীরে ধীরে তার দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে আসে। চোখে অস্ত্রোপচার করেও তেমন উন্নতি হয়নি। ২০২৩ সালে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। তবে দৃষ্টি হারালেও চিন্তা, গবেষণা ও লেখালেখি চালিয়ে গেছেন নিরলসভাবে।
আহমদ রফিক পেশায় ছিলেন চিকিৎসক, তবে জাতীয় জীবনে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সৈনিক এবং রবীন্দ্র গবেষক হিসেবে। তিনি রবীন্দ্র চর্চা কেন্দ্র ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তার কর্মময় জীবনে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন। কলকাতার টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাকে ‘রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য’ উপাধি দেয়।
১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আহমদ রফিক। ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রীকে হারান ২০০৬ সালে এবং নিঃসন্তান ছিলেন। কবিতা, প্রবন্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গবেষণামূলক রচনাসহ তার লেখা ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।
ভাষা আন্দোলনের অগ্রসেনানী, রবীন্দ্র গবেষণার পথিকৃৎ এবং মানবিক মূল্যবোধে অঙ্গীকারবদ্ধ এই মহৎ মানুষটির মৃত্যুতে জাতি হারালো এক উজ্জ্বল বাতিঘর।