নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় দিল্লি সফরের সময় এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের ভূমিকার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেন এবং বলছেন, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন—তাই তিনি নরেন্দ্র মোদীর কাছে এ সম্পর্কে জোরালো বার্তা দিয়েছেন।
ইউনূস জানান, তিনি মোদীকে অনুরোধ করেছেন যাতে হাসিনা বাংলাদেশের বিষয়ে জনসম্মুখে মন্তব্য না করেন; মোদী তার পাশে দাঁড়াননি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই বলে জানান।
ইউনূস সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি; শুধু তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না দেওয়া হতে পারে—তবে নির্ধারণের শেষ কথা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষেরই।
অন্যদিকে, ওই সাক্ষাৎকার ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—হাসিনা ভারতের মাটিতে থেকে বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে বক্তব্য রাখছেন এবং বাইরের কিছু শক্তি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে; ইউনূস এই সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যদি আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকে, ভারত হয়তো তাকে নিজেদের মতোই রাখতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করতে গেলে উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ জটিলতা তৈরি হয়েছে; পাশাপাশি আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে—এগুলো দেশীয় রাজনীতিকে বর্তমানে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
মোঃ রবিউল আলম, নিউ ইয়র্ক থেকে জানান—আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই অভিযোগ-প্রতিবাদের ফলে ঢাকা-কেউ প্ল্যানে কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিলতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি কিভাবে এগোবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারস্পরিক কূটনৈতিক সংলাপ ও স্পষ্ট নীতির প্রয়োজন বলেই মন্তব্য করেন কূটনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।