পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া সশস্ত্র কার্যক্রম রোধে সেনাবাহিনী আড়াইশটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি তুলেছে। নিরাপত্তা সূত্রে মিলছে তথ্য—ইউপিডিএফসহ কিছু মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী সীমান্তের কাছাকাছি মিজোরাম থেকে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ পাচ্ছে; এরপরই তারা চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে সক্রিয় হয়েছে।
সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিচুক্তির পর অসংখ্য ক্যাম্প কমে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা শক্তি সঞ্চয় করে উপরি হয়েছে; ফলত গত এক বছরে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার মত চাঁদা আদায়ের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ইউপিডিএফের অংশ ১০৪ কোটি টাকা।
তারা আরও জানায়, ২০০৯ সাল থেকে এই গোষ্ঠী ৩৩২ জনকে অপহরণ করে; একই সময়ে ৮৯ জন হত্যার শিকার হয়েছে—যাদের মধ্যে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য এবং সেনা সদস্যও রয়েছেন।
“সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব নয়,”—খাগড়াছড়ি জোনের একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিডিয়াকে বলেন। তিনি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থরা জানিয়েছেন, নতুন ক্যাম্প থাকলে প্রতিটি রুটে তাৎক্ষণিক সেনা উপস্থিতি নিশ্চিত করা যাবে, অস্ত্রপ্রবাহ বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং অপহরণ-চাঁদাবাজির মতো অপরাধগুলো দ্রুত রোধ করা যাবে। মোবাইল টহল, স্যালাইন চেকপোস্ট এবং স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক শক্ত করা হবে বলে তারা জানান।
মোঃ রবিউল আলম, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত রক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে; তবে স্থানীয় জনজীবন ও বেসামরিক যোগাযোগ বজায় রাখার প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বানও জানিয়েছেন সেভেন ক্লাস কমান্ডাররা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত এবং উদ্দেশ্যভিত্তিক ক্যাম্প সম্প্রসারণই এখন একমাত্র কার্যকর বিকল্প।