আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার উপযোগিতা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি ও এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের সঙ্গে বর্তমানে যে উত্তেজনা চলছে সেটির কারণ হিসেবে বাংলাদেশের ছাত্রদের ভূমিকা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে এশিয়া সোসাইটির প্রেসিডেন্ট কিউং–ওহা ক্যাং সঞ্চালনা করেন; সংগঠনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা-কে।
ইউনুস বলেন, “এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা আমাদের উপকৃত করে; তাই আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়েই ভাবা উচিত। কিন্তু এখন ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা চলছে, কারণ ছাত্ররা যেটা করেছে, সেটা তারা পছন্দ করেনি।” তিনি আরও বলেন, “তারা (ভারত) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে—যিনি সব সমস্যা তৈরি করেছেন এবং তরুণদের হত্যা করেছেন—এবং এটাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করেছে। তাছাড়া অন্যপক্ষ থেকে ভুয়া খবরে অসম্মতি দেখা গেছে, যা ক্ষতিকর।” এই বক্তব্যে তিনি ভুয়া খবর ও অপপ্রচারের বিষয়টি তীব্রভাবে প্রতিপাদ্য করেন।
বাংলাদেশে ইসলামপন্থী আন্দোলন ও তালেবান প্ররোচনার সন্দেহের অপপ্রচারের কথাও উল্লেখ করে ইউনুস কিছু ভাঁজ-ভাষায় বলেন, “তারা বলেছে, এরা তালেবান; এমনকি বলেছেন আমি একজন তালেবান—যদিও আমার দাঁড়ি নেই, বাড়িতে রেখে এসেছি,”— বলে হালকা রসিকতায় মন্তব্য করেন তিনি।
ইউনুস সার্কের গুরুত্ব ও ধারণা তুলে ধরে বলেন, “সার্ক একটি পরিবারের মতো—দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একত্রিত করার মূল ভাবনা ছিল। তরুণেরা যেন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে, শিক্ষা ও ব্যবসায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আমরা সবাই একসঙ্গে মিললে উপকৃত হব।” তিনি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে রেখে বলেন, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে ভারতের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত; এ অঞ্চলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ালে আঞ্চলিক সুযোগ কাজে লাগবে।
তাছাড়া মিয়ানমার-রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দেন—রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকার ক্ষেত্রে ফেরত আনাগোনা ও স্থায়ী সমাধান তৈরির আহ্বান জানিয়ে ইউনুস বলেন, “আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই; বিরোধ কাউকে উপকৃত করে না।”
ইউনুস আরও বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ান-এ আনুষ্ঠানিক নয় তবু অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বিবেচনা করতে পারে—কারণ আসিয়ান আঞ্চলিক সমন্বয় ও আন্তসংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। সমগ্র প্রস্তাবনা ও মন্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা আঞ্চলিক অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সংলাপকে গুরুত্বের সঙ্গে সামনে রাখেন।