স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার জেলা কুমিল্লার সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামত–উন্নয়নে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি একক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রেখেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
ডিপিপি অনুযায়ী, ২০২৫–২০৩০ মেয়াদে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ‘কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ যাচ্ছে উপদেষ্টার নিজ উপজেলা মুরাদনগরে—৪৫৩ কোটি টাকা; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ৩৩৮ কোটি টাকা কুমিল্লার দেবীদ্বারে, যা এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর এলাকা।
একই পথে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদের জেলা সাতক্ষীরায় এলজিইডি ২,১৯৮ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, কোনো জেলার জন্য এলজিইডির এমন বড় একক প্রকল্প অতীতে বিরল। কুমিল্লার প্রকল্পটি ব্যয় পুনর্নির্ধারণের পর একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায়; সাতক্ষীরার প্রকল্পটি কমিশন থেকে ফেরত গিয়ে মন্ত্রণালয়ে আছে।
সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ন্যায্য বণ্টন। এলজিইডির হিসাবে কুড়িগ্রামে ৭০ শতাংশ উপজেলা সড়ক ‘পুওর/ব্যাড’ হলেও সেখানে কোনো একক প্রকল্প নেই। কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, গত অর্থবছরে সড়ক মেরামতে ৮০ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পেয়েছেন ৪০ কোটি।
জাতীয় বাজেট সংকোচন ও রাজস্ব ঘাটতির সময়ে একাধিক জেলায় ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ বরাদ্দই জোগাড় কঠিন—এমন প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট জেলায় হাজার কোটির বিশেষ প্রকল্প প্রশ্ন তুলছে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি—ই-মেইল, বার্তা ও দপ্তরে যোগাযোগেও সাড়া মেলেনি। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ বলেন, সাতক্ষীরায় বহু বছর বড় প্রকল্প হয়নি; জনগণের ভোগান্তি কমাতেই উদ্যোগ, যদিও ব্যয় এত বেশি হবে তা জানা ছিল না। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, কুমিল্লায় সরকারি বরাদ্দকে ব্যক্তিনির্ভর প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে; উদ্বোধনী আয়োজনে উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্যে ‘উপহার’–ধরনের ভাষা শোনা যায়। জবাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা উবায়দুল সিদ্দিকী বলেন, ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, ‘বর্তমান সরকারের উন্নয়ন’ বলেই তুলে ধরা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রকল্প দুটিকে ‘স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ আখ্যা দিয়ে একনেকে অনুমোদন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, কর্তৃত্ববাদী আমলে যে প্রবণতা দেখা যেত, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণ তার ব্যতিক্রম আশা করে।
এদিকে ডিপিপি বলছে, কুমিল্লা প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণ ও পুনর্বাসন, সেতু–কালভার্ট নির্মাণ, ইউনিব্লক দিয়ে গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন এবং বাজার–গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন হবে—যা কৃষি–অর্থনীতিতে গতি, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা
কিন্তু প্রকৃত অগ্রাধিকার ধার্য ও জেলার ভিত্তিতে সমতা—এই দুই প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে একনেকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।