বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে সরকার

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার মত প্রকাশ ও সমাবেশ করার স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ না করাকে তিনি তার সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি মত প্রকাশের […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৫০

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার মত প্রকাশ ও সমাবেশ করার স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ না করাকে তিনি তার সরকারের আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, তার মন্ত্রণালয় বা সরকারের ১০০ দিনে গণমাধ্যমের কার্যক্রমে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি। মিডিয়া এখন তার পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে।

নাহিদ আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছরের ইতিহাসে দেশের জনগণ ও গণমাধ্যম কখনো এমন স্বাধীনতা ভোগ করেছে কি না তা আমাদের জানা নেই। সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে এর আগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা ও রাজনৈতিক মতবিরোধ দমন করা হতো উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু দেশে ১৬ বছর স্বৈরাচারী অবস্থা ছিল, সেই সময়ে দেশবাসীর কাছে অনেক কথা ও দাবি জমা ছিল। এখন তারা সেগুলো প্রকাশ করছে। আমরা তাদের জন্য সেই পথ তৈরি করার চেষ্টা করেছি যাতে করে তারা যা বলতে চায় তা বলতে পারে। সরকারের ওপর আস্থা রেখে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, হয়তো আমরা এখনই তাদের সব দাবি পূরণ করতে পারছি না, তবে আমরা প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করছি।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অফিস সংস্কার, পরিবর্তন পরবর্তি কর্মকর্তাদের রদবদল ও পরিকল্পনা তৈরিতে ব্যস্ত থেকেছে। জুলাই বিপ্লবের দিকে ফিরে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকাশনা ও তথ্যচিত্র তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জুলাই বিদ্রোহের বিশাল প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। নাহিদ বলেন, শহিদ ও আহত সাংবাদিকদের জন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগী সংগঠন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া সংস্কার কমিশন একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করবে এবং আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমরা সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়।

আমরা আশা করছি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের জনগণ বিচারের প্রমাণ পাবে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ একশ দিনে সাংবাদিকতার উন্নয়ন, ফ্যাসিবাদের পতন, জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে তথ্যচিত্র নির্মাণ ও সম্প্রচারে তথ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রণালয় গত ১লা জুলাইয়ের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পর্যালোচনার জন্য আট সদস্যের কমিটি গঠনের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে পাঠিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ইতোমধ্যে ৩৫০ সাংবাদিককে ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে এবং সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয় জাতীয় চলচ্চিত্র উপদেষ্টা কমিটি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ড, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ প্রদানের জন্য জুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন বোর্ড ও কমিটির জন্য যোগ্য প্রার্থী প্রস্তাব করার জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।

জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বিএসএস), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরসহ (ডিএফপি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে কিছু কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে ও কিছু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বাংলাদেশ টেলিভিশন ‘আগামীর বাংলাদেশ,’ ‘ফ্যাসিবাদের ডায়েরি,’ ‘দমনের উপাখ্যান’ ও ‘শহিদ পরিবারের আর্তনাদ’ এবং ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড এবং জুলাই বিপ্লব নিয়ে বেশ কিছু অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে।

দুর্নীতির বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার চেতনা জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে, গণযোগাযোগ বিভাগ মাইকিং, ৫২৭টি তথ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং ১১৯টি উঠান বৈঠক এবং ১৭৩টি সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজনের মতো বিস্তৃত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

গত ১০০ দিনে বাংলাদেশ বেতারের প্রধান অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে থাকে ফ্যাসিবাদ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর তথ্যচিত্র সম্প্রচার, বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার বিষয়ে আলোচনা, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ওপর সঙ্গীতানুষ্ঠান, মানি লন্ডারিং, বাজার সিন্ডিকেট ও সংস্কারের ওপর জারি গান এবং বিপ্লব পরবর্তী সময়কালে তরুণদের কর্মকাণ্ডের ওপর অন্যান্য অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জুলাই বিদ্রোহে শহিদ ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে ১৪১টি সংবাদ ও ফিচার গল্প প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী সরকারের দুর্নীতি, দমনপীড়ন, হত্যা ও মানবতার বিরোধী অপরাধের ১৪০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

পিআইবি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা সম্পর্কিত একটি জার্নাল নিরীক্ষার দুটি সংস্করণ প্রকাশ করবে। এতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, প্রধান উপদেষ্টা’র বক্তৃতা এবং মিডিয়া ও সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে এবং শহিদ ছাত্রদের ওপর ২০টি ফিচার স্টোরি, গ্রাফিতি অভ্যুত্থান ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ছাত্রদের ভূমিকা প্রকাশ করবে।

বাংলাদেশ সিনেমা অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ‘বৈষম্যমুক্ত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে বিসিটিআইয়ের কার্যক্রম’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে।

গণমাধ্যমে বৈষম্য দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর, গণমাধ্যম বান্ধব ও বৈষম্যমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গণমাধ্যম কর্মী ও অংশিজনদের সঙ্গে তিনটি মতবিনিময় সভা করেছে। তাছাড়া দুর্নীতি, দমন, বলপূর্বক গুম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, নির্বাচনী ব্যবস্থার ধ্বংস, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের যাবতীয় অপকর্মের তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিভাগকে (ডিএফপি) নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

 

জাতীয়

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, […]

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৯

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, এবং সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সচিব ও প্রধান কর্মকর্তারা।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে বাড়বে কেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা

বৈঠকে ইসি সচিবালয় জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটকেন্দ্র তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি বাজেট, জনবল ও লজিস্টিক প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যদি দুটি ভোট পৃথক দিনে হয়, তবে ব্যয় ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্বিগুণ হবে, যা অর্থ বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সম্ভব নয় বলে ইসি জানায়।

মাঠ প্রশাসন ও অবকাঠামো প্রস্তুতির নির্দেশ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনি সময় মাঠ প্রশাসনকে হেলিপ্যাডগুলো সংস্কার করতে হবে, যাতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি উপজেলায় একটি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে থাকবেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজগুলোর সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ থাকে এবং অনিয়ম হলে পরবর্তীতে শনাক্ত করা যায়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিটিভি ব্যবহারের পরিকল্পনা

ইসি জানিয়েছে, বিটিভি ও সংসদ টেলিভিশনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোট ও নির্বাচনি সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। ভোটারদের সচেতন করতে নিউজ ও ফ্ল্যাশ বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে বা আলাদা দিনে হবে কিনা, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

বাজেট ও জনবল প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। প্রশাসন সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করবে। যদি দুটি ভোট একসঙ্গে হয়, ব্যয় বাড়বে, তাই আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থ বিভাগের সচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ব্যয় অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সময়মতো বাজেট ছাড় দেওয়া যায়।”

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এতে সরকারি শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষ শিক্ষকের তালিকা তৈরিতে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ও এআই মনিটরিং সেল

ইসি জানায়, প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলক পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ ১৬ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া প্রচারণা রোধে একটি এআই-নির্ভর মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এই সেল বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

পরিশেষে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সহজে অংশ নিতে পারেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই সব মন্ত্রণালয়কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।”

জাতীয়

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন। বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন […]

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:৩০

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন।

এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন।

বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

এছাড়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আকবর। ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকের সবাই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয়

সেই মেজর জেনারেল কবির কোথায়, জানাল সেনা সদর

মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট’ বা অবৈধভাবে অনুপস্থিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সকল স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেনাসদর। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তিনি যেন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বোচ্চ নজরদারিতে রয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৫, ২০:৫৩

মেজর জেনারেল কবির আহমেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট’ বা অবৈধভাবে অনুপস্থিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সকল স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেনাসদর। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তিনি যেন দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বোচ্চ নজরদারিতে রয়েছে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। তিনি বলেন, “মেজর জেনারেল কবির না জানিয়ে অবৈধভাবে ছুটিতে গেছেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।”

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জয়েন্ট ইন্টেরোগেশন সেল (জেআইসি)-এ ভুক্তভোগীদের বন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এটি বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা, যেখানে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হচ্ছেন।

কবির আহমেদ অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব ছিলেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময়, যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল। এছাড়া তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্ট পদে নিযুক্ত করা হয়, এবং সর্বশেষ ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো অন্যায় কাজে জড়িত ছিলেন না। তবে বিভিন্ন বাহিনীতে প্রেষণে থাকা অবস্থায় কিছু ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “ওয়ারেন্ট ইস্যুর বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ ঘটনার পর সেনা সদর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে একাধিক বৈঠক চলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কবির আহমেদের মতো একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার অনুপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক সংকট নয়, বরং এটি দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।