ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের বড় জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘ট্যাগ’ দেওয়ার রাজনীতির ভূমিধস পরাজয় হয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী ছাত্রশিবিরের নেতাদের অভিনন্দন। স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা জিতেছেন তাদের অভিনন্দন। অভিনন্দন এ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া সব অংশগ্রহণকারীদের। ছাত্রশিবিরের বিশাল বিজয় নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে। তবে আমি বলবো—এ নির্বাচনের মাধ্যমে ট্যাগ দেওয়ার রাজনীতির পরাজয় হলো।”
আসিফ নজরুল স্মরণ করিয়ে দেন, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে কেবল শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। “শিবির সন্দেহে শিক্ষার্থীদের পেটানো ও পরে পুলিশে সোপর্দ করা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আমি এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদ করেছি। নানা হুমকি ও আক্রমণ এসেছিল, কিন্তু কখনো থামিনি।”
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি ‘আমি আবুবকর’ নামের একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন, যা সেই বছরের বইমেলায় একাধিকবার মুদ্রণ করতে হয়েছিল। তার মতে, এখন সেই কারণ স্পষ্ট হয়েছে—এটি ছাত্রশিবির নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ড. আসিফ নজরুল শিবির নেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানকারী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি তিনি ঢাবির আবাসিক শিক্ষার্থীদের নাজুক অবস্থা তুলে ধরে লেখেন, “সলিমুল্লাহ হলে জুমার নামাজ পড়তে যেতাম।
বারান্দায় চৌকি, মশারি, ভাঙা আসবাবপত্র দেখে মনে হতো বস্তি। ক্যান্টিনের চিত্রও লঙ্গরখানার মতো ছিল। রুমগুলোর অবস্থা ছিল আরও খারাপ। এত সমস্যা আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আশা করি ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে নতুন নেতৃত্ব অন্তত আবাসিক শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুতর সমস্যা সমাধান করবে।”
উল্লেখ্য, এবারের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন এস এম ফরহাদ।