বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শহীদ সজিব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক এমপি একে এম শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।
প্রায় ১ বছর দেড় মাস পর নিহত সজিবের পিতা মো. সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে। মামলা নম্বর ২১৫/২৫, যাতে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে, এর মধ্যে একশ থেকে দেড়শ জন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত সজিব সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের এক দোকানের কর্মচারী ছিলেন। গত বছরের ২২ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি দোকান বন্ধ করে ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগ দেন।
ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ, ওবায়দুল কাদেরের পরিকল্পনা এবং শামীম ওসমানের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা গোপন বৈঠক করে আন্দোলন দমন করার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর তারা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সজিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল নিয়ে গেলে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বাদী মো. সালাউদ্দিন মামলায় উল্লেখ করেন, শোক সামলে সাক্ষীদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হয়।
এদিকে শহীদদের তালিকায় সজিবের নাম ৫৩৬ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাদের নাম রয়েছে।